ময়মনসিংহের ভালুকায় বেতন বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহন। পরে বেতন বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। এরপর হঠাৎ করে শ্রমিকরা আবারও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ভালুকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাঠালি এলাকায় শেফার্ড (গ্রুপ) জিন্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও ছুটির টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। মঙ্গলবার দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
সুইং সেকশনের কর্মী লিপি আক্তার বলেন, ঈদ সামনে, কেনাকাটার বিষয় আছে। আমাদের বেতন, ঈদ বোনাস, বাৎসরিক ছুটির টাকা এখনো দেয়নি। কবে দিবে, কখন দিবে কেউ কোনো কথা বলে না। গতকাল জিএম বলছে আজকে কথা বলে বেতন দিবে। কিন্তু আজকে জিএমই নাই কারখানায়। এর আগেও আন্দোলন করে আমাদের বকেয়া বেতন নিতে হয়েছে।
শিল্পপুলিশের একটি সূত্র বলছে, শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে আবারও অবরোধ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করেন। এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা ধাওয়া করেন। এ সময় ইট-পাটকেল মেরে বেশকিছু গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করা হয়। এতে পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়।
এ বিষয়ে শেফার্ড গ্রুপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, শ্রমিক কাজে যোগ না দেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে আমাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সকালেও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও মার্চের ১৫ তারিখে বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে যায়। তবে মার্চ মাসের বেতন দেওয়া হবে কি না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিবেন।
এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোপীনাথ কানজিলাল বলেন, আজকের মধ্যে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া হবে এবং মার্চের ১৫ তারিখ বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে আসে।


