ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার তিনটি পৃথক কারখানায় একদিনে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানার পানি পরিশোধন ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া এনভয় কারখানায় দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক এবং ভরাডোবা এলাকার পাকিস্তানি মিলে অসুস্থ হয়ে আরও এক শ্রমিক মারা যান।
নিহতরা হলেন খুলনা জেলার শফিকুল ইসলাম (৩০), নেত্রকোনা জেলার রুমেল (২৫), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জাবেদ হোসেন (৩০) এবং ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আলামিন (২৫)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ২টা থেকে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার তিনটি কারখানায় এসব ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন জানান, এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানার পানি পরিশোধন ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই হাসপাতালে এনভয় কারখানার শ্রমিক জাবেদ হোসেনকেও আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ভালুকা শিল্প পুলিশের পরিদর্শক ইমারত গাজী জানান, নিহত শফিকুল ও রুমেল কারখানার স্থায়ী শ্রমিক ছিলেন না; তারা দৈনিক চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে সিডস্টোর এলাকার এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানার পানি পরিশোধনাগারের ট্যাংক পরিষ্কার করতে প্রথমে শফিকুল নিচে নামেন। পরে তার কোনো সাড়া না পেয়ে রুমেল তাকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামেন। একপর্যায়ে দুজনই ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে কারখানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভরাডোবা এলাকার পাকিস্তানি মিলে কর্মরত আলামিন সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
অন্যদিকে, হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত এনভয় কারখানায় কাজ করার সময় জাবেদ হোসেন মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে রডের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

