নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করে সাধারণ কেয়ারটেকার (জিসি) পদে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিল্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ মুসার বিরুদ্ধে এই নিয়োগকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, বিতর্ক, প্রভাব বিস্তার, তথ্য গোপনসহ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনকারীদের আবেদন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে (স্ক্রুটিনি) বাদ পড়ার কথা; কিন্তু প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার মোহাম্মদ মুসা তাদের বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, সাধারণ কেয়ারটেকার (জিসি) পদে নিয়োগ নীতিমালা ও শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীর বাসস্থান রিসোর্স সেন্টার থেকে অবশ্যই ২ কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নীতিমালা ও শর্তাবলী লঙ্ঘন করে উপজেলার ৩ নম্বর গোনা ইউপির সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় ২০ কিমি (আপ-ডাউন ৪০ কিমি) দূরের কালিগ্রাম ইউপির রাতোয়াল গ্রামের মো. বাবু সরদারের ছেলে মো. ময়নুল ইসলামকে সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ময়নুল ইসলাম সি-গ্রেড সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বসির উদ্দিনকে বয়সের অজুহাতে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে বিতর্কিত এই নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা থেকেই তথ্য ফাঁসের সূচনা হয়।
২ নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মো. আবুবকর সিদ্দিককে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে প্রায় ১৩ কিমি (আপ-ডাউন ২৬ কিমি) দূরের কালিগ্রাম ইউপির রিসোর্স সেন্টারে সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিস ফাঁকি দিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরং প্রতিবার একনেক সভায় প্রকল্প পাস হওয়ার পর নিয়োগ নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হলেও এত অভিযোগ থাকার পরও প্রতিবছর রহস্যজনক কারণে বিতর্কিত আবুবকর সিদ্দিককেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে দুটি নিয়োগের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হওয়ায় একটি অভ্যন্তরীণ আদেশের মাধ্যমে উভয়ের রিসোর্স সেন্টার পরিবর্তন করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বৈধ করার চেষ্টা চলছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ নিয়োগ বাণিজ্যের দিকেই ইঙ্গিত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ কেয়ারটেকার পদের একজন প্রতিযোগী মুঠোফোনে বলেন, ‘জোর দিয়ে বলতে পারি, দুইজনেরই পরীক্ষার খাতা পুনরায় দেখা হোক, তাহলেই বোঝা যাবে পরীক্ষার খাতায় কার কত নম্বর।’
তাই একজন প্রতিযোগী শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষক ও সচেতন মহল অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গোনা ইউপির সাধারণ রিসোর্স সেন্টারে কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পাওয়া মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে বৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছি।’
কালিগ্রাম ইউনিয়নের রিসোর্স সেন্টারের সাধারণ কেয়ারটেকার মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস করেন এবং তার নিয়োগের সময় ২ কিলোমিটারের মধ্যে বাসস্থানের নিয়ম ছিল না। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘গত রমজান মাসে একদিনও রিসোর্স সেন্টারে যাইনি। সারা মাসজুড়ে যাকাতের টাকা তুলতে হয়েছে। অফিস যেভাবে চায়, সেভাবেই কাজ করি।’
বিষয়টি জাননে ফোন দিলে কল কেটে দেন রাণীনগর উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ মুসা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধভাবে হয়েছে কি না জানতে চাইলে নওগাঁ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. মারুফ রায়হান মুঠোফোনে বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ডিসি স্যারের সভাপতিত্বে নিয়োগ কমিটি রয়েছে, এবং নিয়োগ কমিটি যেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেভাবেই কাজ হয়েছে। এখানে রেজুলেশনসহ সবকিছুই নিয়ম মাফিক করা হয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন