ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

নড়াইলে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর আহাজারি

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আমার বাচ্চাটাকে স্বামীর কোলে দিতে পারিনি, বলতে পারিনি দেখো, এ তোমার মেয়ে। আমার মেয়ে যখন বড় হয়ে বলবে, আমার আব্বু কোথায়? তখন আমি ওকে কী জবাব দেব? আমি কীভাবে বলব, তোর আব্বুকে ওরা মেরে ফেলেছে। আমার স্বামী যদি ওদের টাকা নিয়ে খেত, তবুও মনকে বুঝ দিতে পারতাম যে পরের টাকা নিয়ে খেয়েছে, শোধ করতে পারেনি, তাই মেরে ফেলেছে। কিন্তু আমাদের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে আমার স্বামীকে কীভাবে মেরে ফেলল? আমার এবং বাচ্চার দায়িত্ব এখন কে নেবে?

বুধবার (২২ জুলাই) এলাকাবাসীর আয়োজনে মো. আলিনুর ফকির (৩০) হত্যার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমারডাঙ্গা গ্রামে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন হওয়া আলিনুর ফকিরের স্ত্রী কামরুন্নাহার সুমি।

এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে লোহাগড়া উপজেলার কুমারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কুমারডাঙ্গা-রাধানগর সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন নিহতের মা সেলিনা বেগম, স্ত্রী কামরুন্নাহার সুমি ও বোন শুকিয়া বেগম। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাজি আল-হেলাল, রকেট শেখ, কায়েম শেখ, রিজাবুল শেখ, মো. আরোজ আলীসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে নিহতের মা সেলিনা বেগম খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বলেন, আমি মরব, আমার বাবা (আলিনুর) আমাকে মাটি দেবে, কাঁদবে, দোয়া করবে। কিন্তু আজ এরা আমাকে কাঁদতে দিয়েছে, আমার বুক খালি করে দিয়েছে। আমার ‘মা’ বলে ডাকার মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাবার একটা বাচ্চা আর আমাকে সাগরে ফেলে গেছে। ওই বাচ্চা দুই দিন পরে আব্বুকে খুঁজলে আমি ওর আব্বুকে কোথায় দেখাব? আমি ভাত নিয়ে বাবার জন্য বসে ছিলাম, কিন্তু ওরা বাবাকে ভাত খেতে দিল না।

এসময় অন্য বক্তারা বলেন, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে আলিনুর ফকিরকে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলার মাত্র দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বাকি আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা অবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।

লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ইতোমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে লোহাগড়ার কুমারডাঙ্গা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজিব শেখসহ তার সহযোগীরা ছুরি দিয়ে আলিনুর ফকিরকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে সোমবার (১৯ জুলাই) রাতে নিহত আলিনুর ফকিরের ভাই আমিনুর ফকির বাদী হয়ে রাজিব শেখকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।