ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্যাস বিস্ফোরণ

শেষ হলো একটি পরিবারের জীবনের গল্প

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিবারটির জীবনের গল্পের সমাপ্তি ঘটলো।

শুক্রবার (১৫ মে) গৃহকর্ত্রী সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারের ৫ সদস্যের শেষ প্রদীপটিও নিভে গেল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মায়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ পরিবারের ৫ সদস্যই এক এক করে মারা গেলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বৃহস্পতিবার সাত বছরের শিশু মুন্না মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর তার বোন মুন্নিও (১০) মারা যায়। শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া মুন্নি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল। শ্বাসনালি পুড়ে শিশুটি মারা যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে একই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) মারা যায় মুন্নির ছোট ভাই মুন্না (৭)। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

তারও আগে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় একই হাসপাতালে মারা যায় তাদের বোন কথা। সাত বছর বয়সী এ শিশুটিরও শ্বাসনালিসহ শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাবা সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই কক্ষের তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।