× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

‘সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশানের উন্নয়ন কাজে আর বাধা নেই’

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজ বন্ধের বিষয়ে চলমান আইনি বিরোধে শ্মশানের পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। আদালত আম্বার পেপার মিলসের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার একমাত্র স্থান এটি। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ৭ একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জায়গা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শ্মশান ও মন্দির বিদ্যমান থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানটি পুরো জমির মালিকানা দাবি করে আসছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা ও অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে একাধিক পাইলিং পিলার স্থাপন করা হলেও পরে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

রায়ের বিষয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চলমান রাখতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। জনস্বার্থ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী পক্ষ আম্বার পেপার মিলসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। আজকের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনি লড়াই অব্যাহত রাখব।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী সম্পত্তিটির মূল্য শত কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।

শ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিশির ঘোষ অমর অভিযোগ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে লিজ গ্রহণের সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে। আদালতের সর্বশেষ রায়ে উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের ফলে শুধু আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজই এগিয়ে যাবে না, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নিষ্পত্তির পথও আরও সুগম হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!