ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এমপির ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া ২টার দিকে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, বাকিরা সন্দেহভাজন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি মাছুম মোস্তফার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের অধিকাংশ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে থামেন এমপি মাছুম মোস্তফা।

সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় হঠাৎ ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং তার গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

এ সময় নামাজ শেষে বের হলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আবু তাহের তালুকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। তার দাবি, দলের কেউ এই হামলার সঙ্গে জড়িত নয় এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.এস.এম. শহীদুল্লাহ ইমরান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। আবু তাহের তালুকদার ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন, তাই তাকে আসামি করা ঠিক হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না; তবে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।