ধর্মপাশার আকাশে প্রায় দুই মাস পর মিলল সূর্যের দেখা। বহুদিন পর রোদের দেখা পেয়ে কৃষকেরা স্তূপ দেওয়া ধান রোদে শুকাতে দেয়। রোদ না থাকায় বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা ধান থেকে কৃষকেরা ত্রিপল আলাদা করতেই ধান থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়—যেন সোনালি রঙের স্বপ্নগুলো কালচে হয়ে পড়ে আছে। ধানের উঁচু স্তূপে শুধু ধান গাছের চারা দেখা যায়। ধান শুকানোর খলার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই পাওয়া যায় পচা ধানের দুর্গন্ধ।
সদর ইউনিয়নের কৃষক দেবল কর বলেন, প্রথমে অতিবৃষ্টিতে ফসলি জমিতে সৃষ্টি হলো জলবদ্ধতা, পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে ফসলি জমিতে পানি বৃদ্ধি, ধান কাটার জনবল সংকট, ধানের বীজে ৮৮ (ভিত্তি) ও ৯২ ধানের মিশ্রণের কারণে কাটতে হয় কাঁচা-পাকা ধান, যে ধানগুলো কাটা হয়েছে রোদ না থাকার কারণে শুকানো যাচ্ছে না, ধান ভেজা থাকায় বিক্রিও করা যাচ্ছে না, জমিতে ফসল করে দুচোখে অন্ধকার দেখছি।
টান মেউহারী গ্রামের কৃষক মো. লতিফ মিয়া বলেন, অর্ধেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে আর যেগুলো কেটেছি সেগুলো মনে হচ্ছে গলার কাঁটা, বিক্রি করতে পারছি না আবার ঘরেও তুলতে পারছি না। কীভাবে মিটাব পরিবারের মৌলিক চাহিদা। সারা বছর টানতে হবে ঋণের বোঝা। একমাত্র সরকারই পারে আমাদের ভাটি এলাকার এই প্রকৃতিসৃষ্ট সমস্যা সমাধানের উপায় বের করে আমাদের এই নীরবে চলমান দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন