ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

একসময়ের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার এখন গ্যালারিতে বসে অন্যদের খেলা দেখেন

রাকিবুল ইসলাম তনু, পটুয়াখালী
প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
শাওন সিকদার এখন আর খেলেন না, অন্যদের খেলা দেখেন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর স্থানীয় ফুটবল অঙ্গনে একসময় পরিচিত মুখ ছিলেন তরুণ শাওন সিকদার। মাঠে দৌড়ে বেড়ানো, গোলের জন্য লড়াই করা সেই ফুটবলার আজ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে নিঃস্ব জীবন কাটাচ্ছেন।

প্রায় দুই বছর আগে কোমরে আঘাত পান শাওন। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ফোলা দেখা দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে পাঠান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে শাওন কেমোথেরাপি শুরু করেন।

শাওনের মা সুফিয়া বেগম একজন ভাসমান চায়ের দোকানি। ছেলের চিকিৎসার জন্য জীবনের সব সঞ্চয় ব্যয় করেও চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়নি। অর্থাভাবে মাঝপথে থেমে গেছে শাওনের চিকিৎসা। বর্তমানে চরম অভাব ও অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবন পার করছেন তারা।

২১ বছর বয়সী শাওন পটুয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিডিএস মাঠ এলাকায় বসবাস করছেন। যে ফুটবল একসময় তাকে পরিচিতি দিয়েছিল, আজ সেই মাঠেই বসে তিনি অন্যদের খেলা দেখেন—চোখে ভাসছে নিজের পূরণ না হওয়া স্বপ্ন।

ক্যানসারে আক্রান্ত অসুস্থ শাওন বলেন, আমি এখন শুধু অন্যদের খেলা দেখেই সময় কাটাই। আমার স্বপ্ন ছিল মাঠে আবার দৌড়ানো, গোল করা। সবাই যদি আমাকে সাহায্য করে, আমি আবারও জীবন নতুন করে শুরু করতে চাই।

অসুস্থ শাওনের মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে সুস্থ দেখতে চাই। চিকিৎসার জন্য যা কিছু সঞ্চয় ছিল, সবই খরচ করেছি। এখন আর কিছু করার ক্ষমতা নেই। সবাই যদি আমাদের সাহায্য করে, তবে হয়তো শাওন আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারবে।

শাওন ও তার পরিবার এখন সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন। আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সহযোগিতা পেলে এই তরুণ আবারও সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন।