পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘পটুয়াখালীর উন্নয়নে বিএনপি সরকারের স্বল্প সময়ে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ম্যাডাম খালেদা জিয়া পটুয়াখালী জেলাকে নিজ জেলা হিসেবে দেখেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পটুয়াখালীকে তার নিজ জেলা হিসেবে দেখেন। তাকে পটুয়াখালীতে আমন্ত্রন জানিয়েছি। তিনি আসবেন।’
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী ব্যায়ামাগারে জেলা, পৌর ও সদর উপজেলা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শত শত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এ জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আমি পটুয়াখালীতে এসেছি আপনাদের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা নিয়ে। নির্বাচনে যারা ভোট দেননি এবং বিরোধিতা করেছে, আমি তাদেরও এমপি। তাদের প্রতিও এমপি হিসেবে আমার দায় রয়েছে। আওয়ামীলীগের মধ্যে বহু নিরীহ মানুষ রয়েছে। তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।
‘যারা অন্যায় করেছে, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখল ও লুটপাট করেছে তাদের জন্য আইন রয়েছে। আওয়ামীলীগ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চাল, গম, অর্থ ভুয়া মাস্টার রোল করে আত্মসাত করেছে। উন্নয়নের জন্য সকল বরাদ্দ আমাদেরকে সততার সাথে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। কোনো অনিয়ম করা যাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এমপির ডিউ অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ হবে না।’
জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদ আহমেদ বায়জীদ পান্না মিয়ার সভাপতিত্বে ও জেলা যুবদলের নেতা অ্যাড. আল আমিন সুজনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাড. ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা লায়লা ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেসমিন জাফর, জেলা যুবদলের নেতা অ্যাড. তৌফিক আলী খান কবির, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান টিটু ও কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মৃধা প্রমুখ।
এর আগে সাংসদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ডাক্তারের স্বল্পতা, নার্সের স্বল্পতা, লোকবলের স্বল্পতা রয়েছে। রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে ঘাটতি থাকলেও রোগীরা অবহেলায় নেই। পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা ও হাসপাতাল কমিটির সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদ সরোয়ার কালামসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।


