ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আলোচিত ‘কালো মানিক’ নামের গরুর মালিক সোহাগ মৃধা (৩৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার জন্য আলোচনায় আসা এই ব্যক্তি এবার অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে গর্ভপাত ঘটানোসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধা উপজেলার ৩নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেলে পারিবারিক বিরোধের জেরে সোহাগ মৃধা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় শাহরিয়ার আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার স্ত্রী ও ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বোনের ওপরও হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীরা অন্তঃসত্ত্বা মাহিনুর বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং পরে গর্ভপাত ঘটে। একই ঘটনায় স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে।

গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরদিন থানায় মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. সোহাগ মৃধাকে রোববার (১৪ জুন) দুপুর নাগাদ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

​পুলিশের পিসিপিআর যাচাই করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই ও চুরিসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগ মৃধাকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদু্জ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘কালো মানিক’ নামের একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার চেষ্টার খবর প্রকাশের পর সোহাগ মৃধা এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন। যদিও পরবর্তীতে প্রায় ৪৪ মণ ওজনের এই গরুটি গত ঈদুল আজহার বাজারে ২২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার বিষয়টি ছিল তার প্রতারণার একটি কৌশল মাত্র, যার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।