× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

তানোরে আলু চাষিদের মাথায় হাত

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

গত মৌসুমে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে লাভের আশায় আলু রোপণ করেছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষকরা। কিন্তু সেই আশায় পড়েছে হতাশার মেঘ। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। যদিও বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। তাহলে কৃষকের কঠোর পরিশ্রম, অধিক খরচ এবং ঝুঁকিপূর্ণ আলুর বাজার কেন এত কম, এ ধরনের হাজারো প্রশ্ন চাষিদের মধ্যে। কারা এই সিন্ডিকেট করে কৃষকদের পথে বসাতে মরিয়া, কে নিয়ন্ত্রণ করছে বাজার, কারা দাম কমাচ্ছে বাড়াচ্ছে এ ধরনের প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষকরা।

অথচ আলু ১১-১৩ টাকা কেজি দরে জমি থেকেই বিক্রি করছেন কৃষকরা। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কীটনাশক ও সার সিন্ডিকেটের শেষ নেই। বিশেষ করে রোপণের সময় দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়েছে পটাশ সার। এতে করে যেকোনো বছরের তুলনায় বিঘায় ১৫-১৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, সেচের খরচও বাড়তি। অথচ আলু ১১ টাকা ৫০ পয়সা, ১২ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। নেই বহিরাগত আলু কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা। ফলে চরম হতাশায় ভুগছেন আলু চাষিরা, দাম কম থাকায় কপালে জমেছে চিন্তার ভাঁজ।

আলু চাষি মইফুল জানান, ‘প্রতিবার ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। গত মৌসুমে আগাম বিক্রির জন্য লোকসান কম ছিল। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এবারও ১২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু তোলা শুরু হয়েছে। সবকিছুর বাড়তি দাম। প্রতি বিঘায় ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং লোকসান হবে বিঘায় ২০–২৫ হাজার টাকা করে। এবার কীটনাশক, সার ও সেচের অতিরিক্ত খরচ। বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম দ্বিগুণ হলেও আলুর বাজারে চরম ধস। গাগরন্দ গ্রামের আলু চাষি মুসলেম জানান, গতবার ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।’

একাধিক আলু চাষি জানান, ‘আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করে হিমাগার মালিক সমিতি। তারা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে। তাদের সিন্ডিকেটের কারণে পথে বসতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, অথচ আলুর দাম নেই। তিন মাস কঠোর পরিশ্রম করার পর আলু উঠেছে। লাভের জন্য চাষ করা হয়। এক মাস আগে আলুর বাজার ছিল ২৫-৩০ টাকা কেজি, সেই বাজার কমে ১১-১২ টাকা কেজিতে নেমেছে। আলু রোপণের সময় দ্বিগুণ দামে সার ও কীটনাশক কিনতে হয়েছে, যেখানে ১ বিঘা জমিতে খরচ হত ৪০-৪৫ হাজার টাকা, এবার ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে পর্যাপ্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি, ফলে বিঘায় ৮-১০ বস্তা ফলন কম হচ্ছে। আলুর বাড়তি দাম হলে কৃষি দপ্তরের বিপণন বিভাগ হইচই ফেলে দেয়। এখন দাম কম, চাষিরা পথে বসছে, আর তারা নীরবতা পালন করছে। এক কথায়, কৃষক মরল কি বাঁচল সেটা কারো আসে-যায় না।’

অথচ এই কৃষকরাই দেশে খাদ্য ঘাটতি ফেলতে দেননি। আর এদের নিয়েই মহা সিন্ডিকেট। কে শুনে কার কথা। আবার গভীর নলকূপ অপারেটররাও আছেন, সেচ নিয়ে কারসাজি চলছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বিঘায় ২০০০-২৫০০ টাকা সেচ হার হচ্ছে, যেখানে বিঘায় ৮০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। এখানেও বেপরোয়া নৈরাজ্য চলছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, ‘এবারে উপজেলায় ১২১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে। হ্যাক্টর প্রতি ২৫ ম্যাট্রিক টন ফলন হয়েছে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগবালাই আছে কিনা দেখা এবং রোগবালাই থাকলে তা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয়ে কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।’

Link copied!