রাজশাহীর তানোরে পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহকের বকেয়া বিলের টাকা দেওয়ার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে স্থানীয়রা হট্টগোল করে অফিসের ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর অলিউল্লাহ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান শান্তকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরের পর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অফিসের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামের কয়েকজন গ্রাহক অফিস-সংশ্লিষ্ট ইলেক্ট্রিশিয়ান নাজমুলের কাছে বকেয়া বিলের টাকা দেন। কিন্তু নাজমুল অফিসে টাকা জমা দেননি। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর অলিউল্লাহ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান শান্ত।
গ্রাহকসহ গ্রামের লোকজন দাবি করেন, তারা নাজমুলকে বিলের টাকা দিয়েছেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তা আমলে না নিয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালমন্দ করেন। এ সময় গ্রাহক ও স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর অলিউল্লাহ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান শান্তকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। পরে বাধ্য হয়ে পুনরায় সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। তখন পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গ্রাহক ও স্থানীয়রা জানান, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে দিন-রাত বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। তারা দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করে আসছেন। বিষয়টি অফিসকে জানালেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ শোনা হয়নি। উল্টো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়, যা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর অলিউল্লাহ জানান, মারপিট হয়নি, শুধু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। বিলের টাকা পরিশোধের পর সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়েছে।
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির তানোর জোনের জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম খান জানান, মারপিট হয়নি। নাজমুল নামে এক স্থানীয় ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাছে গ্রাহকরা বিলের টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু তা অফিসে জমা না দেওয়ায় হট্টগোল হয়। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তিনি ছুটিতে আছেন বলেও জানান।



