× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

পুঠিয়ায় শিক্ষকশূন্য প্রতিষ্ঠান, চলছে আওয়ামী রাজনীতির চর্চা

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘পুঠিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এখন চরম অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের লাগামহীন অনুপস্থিতি, ক্লাস বর্জন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চর্চায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে এক হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়। মাধ্যমিক শাখায় হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কলেজ শাখা ছিল সম্পূর্ণ শিক্ষকশূন্য। প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ গোলাম ফারুককেও তার নিজ দপ্তরে পাওয়া যায়নি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা লক্ষ্যহীনভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তদারকি ও শাসনের অভাবে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা এখন নামমাত্র। স্থানীয়রা একে ‘অরাজক পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার নেপথ্যে বাংলা বিভাগের নিবন্ধনহীন আওয়ামী লীগের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক ইসমাইল হোসেনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর হওয়ার সুবাদে ইসমাইল হোসেন ও তার অনুসারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ইসমাইল একজন নিবন্ধনহীন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক হয়েও সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি প্রতিষ্ঠানেই না আসেন, তবে আমাদের সন্তানরা কী শিখবে? স্কুলের ভেতর রাজনীতির চর্চা চললে শিক্ষার কোনো মান থাকে না। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

সব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উপজেলার মধ্যে সেরা। তবে শিক্ষক ইসমাইলের ব্যাপারে তিনি কিছুটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘ইসমাইল সাবেক কাউন্সিলর হওয়ায় নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করেন এবং মাঝেমধ্যে বাড়াবাড়ি করেন। তার কর্মকাণ্ডে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও অসন্তুষ্ট।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন তার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে সন্তানের অসুস্থতাকে দায়ী করেছেন। রাজনৈতিক চর্চার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমি আর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান জানান, ইতিপূর্বে তাদের সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। পুনরায় একই ভুলের জন্য এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!