ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিচারকের ছেলে হত্যা: লিমনের আরও ৫ দিনের রিমান্ড

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১০:১৭ পিএম
আসামি লিমনকে কারাগারে নেওয়া হয়। ছবি- সংগৃহীত

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান তৌসিফ (১৫) হত্যা মামলার আসামি লিমন মিয়ার (৩৪) আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ হাজির করা হয় লিমন মিয়াকে। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আশিকুর রহমান আসামি লিমন মিয়ার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন রাজপাড়া থানার এসআই আসাদুল ইসলাম।

এদিকে, গত ১৫ নভেম্বর লিমন মিয়াকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। ওই শুনানিতে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগের রিমান্ডের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি লিমন মিয়ার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম ছিলেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কোর্ট পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান নিজেই আলোচিত এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামি লিমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড় চকপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম সোলাইমান শহিদ। লিমন মিয়া সাবেক সেনা সদস্য, ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করে বাড়িতে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর দায়জ জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে পরিচিতির পর লিমন মিয়াকে মাঝে মাঝে আর্থিক সহায়তা করা হতো। পরে সহায়তা বন্ধ হলে লিমন মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে রাজশাহী নগরের ডাবতলায় বিচারকের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তিনি বিচারকের ছেলে তাওসিফ রহমান তৌসিফকে হত্যা করেন এবং তার মা তাসমিন নাহার লুসিকে (৪৪) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেন।

গত ১৪ নভেম্বর বিচারক নিজে বাদী হয়ে লিমন মিয়াকে আসামি করে রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া। ঘটনার দিন লিমন মিয়া নিজেও আহত হন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশ হাসপাতালে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।