শেরপুরের ঝিনাইগাতী চেঙ্গুরিয়া কালিবাড়ি এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের শতবর্ষী চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম। আজ ১৫ জুন সোমবার দুপুর ১২টার ভুক্তভোগীর নিজ বাড়িতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি মানববন্ধনের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ২০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, যে জমিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি তার নিজস্ব খতিয়ানভুক্ত বসতভিটার অংশ। সেখানে কোনো খাস জমির অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন পশ্চিম পাশ অরক্ষিত থাকায় এবং বসতভিটার নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত জমি দখল করিনি এবং কারো চলাচলের পথও বন্ধ করিনি। বরং একটি প্রভাবশালী মহল আমার বসতভিটার জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধ বা বৈষম্যের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন ও তার পরিবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে। এ ছাড়া তাদের চলাচলের জন্য পশ্চিম পাশে বিকল্প একাধিক রাস্তা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অনিন্দিতা রানী ভৌমিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হককে সাথে নিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে এসিল্যান্ডসহ তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা মামলা চলমান।
তিনি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ ও সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

