বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন, সহপাঠী ও সহকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন ডা. ধীপ্রা। তারা বলেন, এসব নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগে কয়েকদিন তিনি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন এবং পর্যাপ্ত খাবারও পাননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
জানা যায়, গত ৪ জুন ধানমন্ডির শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ধীপ্রা। পরে তাকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি ২০১৮ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালে সহপাঠী চিকিৎসক রহমত রশিদ সিয়ামকে বিয়ে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ : ডা. ধীপ্রার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহপাঠী, বন্ধু ও পরিচিতজনদের বিভিন্ন পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব পোস্টে তার দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। রাহাফ আমিন নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করা হয়, ডা. ধীপ্রা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সহানুভূতিশীল ও মানবিক একজন মানুষ। কিন্তু বিয়ের পর তিনি ধারাবাহিক মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন। পোস্টে আরও বলা হয়, সন্তান জন্মের পর তিনি প্রসব-পরবর্তী বিষণœতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন। ওই পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের আচরণে তিনি ক্রমশ একাকী ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কষ্টের কথাও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। স্বজন ও বন্ধুদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অসুস্থ হওয়ার পর কাছাকাছি কয়েকটি হাসপাতালে না নিয়ে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তারা।
ডা. ধীপ্রার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো পরিষ্কার হয়নি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে ধীপ্রার স্বামী এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

