বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাঁচবারের সফলতম দল ব্রাজিল। তবে সেই ২০০২ সালের পর থেকে সোনালি ট্রফিটা যেন সেলেসাওদের জন্য এক অধরা স্বপ্ন হয়ে আছে। ২৪ বছরের সেই শিরোপা খরা কাটাতে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামছে তারা। গ্রুপ ‘সি’-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ১৪ জুন নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মাঠে নামছে কার্লো আনচেলোত্তির দল। তবে প্রথম ম্যাচেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ, কারণ প্রতিপক্ষ আর কেউ নয় ২০২২ কাতার বিশ^কাপের সেমিফাইনালিস্ট ও আফ্রিকান ফুটবলের নতুন পরাশক্তি মরক্কো।
কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিল দলে এসেছে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন। অতীতে সাম্বা নাচের দেশের ফুটবলাররা যে চিরচেনা স্বতঃস্ফূর্ত আক্রমণাত্মক শৈলীতে খেলত, ইতালীয় এই কোচের অধীনে সেখানে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এখন প্রথম অগ্রাধিকার। ৪-৩-৩ ফরমেশনে সাজানো ব্রাজিলের এই নতুন দলে দুই প্রান্তের গতিকে কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক করার রণকৌশল দেখা যাচ্ছে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা ও ম্যাথিউস কুনহাদের মতো তরুণ ও ক্ষুরধার ফরোয়ার্ডদের ওপরই ভরসা রাখছেন আনচেলোত্তি। এই দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ নেইমার, যিনি নিজের সেরা সময় পেরিয়ে এলেও যেকোনো বড় ম্যাচে মুহূর্তের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই একটা খুঁত যেন থেকেই গেল সেলেসাওদের। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিশর (২-১) ও ক্রোয়েশিয়ার (৩-১) বিপক্ষে জয় আনচেলোত্তির কৌশলের কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও গত মার্চে ফ্রান্সের কাছে ১-২ গোলের হারটি ব্রাজিলের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
মাঠের অপর প্রান্তে মরক্কোর ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা এখন আর কেবল কোনো ‘চমক’ নয়, বরং হাই-ডিসিপ্লিনড ডিফেন্স আর নিখুঁত টিম গেমের মেলবন্ধনে তারা এখন যেকোনো বড় দলের জন্য ত্রাস। আশরাফ হাকিমি, গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো, নায়েফ আগুয়ের্দ এবং ব্রাহিম দিয়াজের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া মরক্কো দল তিন লাইনেই সমভাবে শক্তিশালী। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত রেকর্ড নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে, যার মধ্যে সেনেগালকে ৩-০ ও প্যারাগুয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর আত্মবিশ্বাস রয়েছে তাদের ঝুলিতে।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, দুই দলের দ্বৈরথ বেশ সমানে-সমানে। অতীতে মাত্র দুইবারের দেখায় জয় ভাগ হয়েছে সমান ১টি করে। তবে সেলেসাও শিবিরে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে বিঁধছে ২০২৩ সালের মার্চের প্রীতি ম্যাচের স্মৃতি, যেখানে মরক্কো ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিলকে। মরক্কো দলে হয়তো ব্রাজিলের মতো বেঞ্চ ডেপথ বা গ্ল্যামারাস সুপারস্টারদের ছড়াছড়ি নেই, তবে কাতার বিশ্বকাপের সেই অদম্য জেদ যদি তারা মাঠে ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের জন্য ম্যাচটি এক চরম অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

