ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

সুইজারল্যান্ড বনাম মরক্কো

মরু ঝড়ের বাধা সুইস দেয়াল

মাঠে ময়দানে প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

ফিফা বিশ^কাপের মহারণে বাংলাদেশ সময় ১৪ জুন রাত ১টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে গ্রুপ ‘বি’র ইউরোপিয়ান পাওয়ারহাউস, সুইজারল্যান্ড এবং ২০২২ সালে ঘরের মাঠের ব্যর্থতা ভুলে বিশ^মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ। গ্রুপপর্বে টিকে থাকার সমীকরণে কাতারের জন্য এটি বাঁচা-মরার লড়াই হলেও শক্তির বিচারে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে সুইসরা।

কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক ফর্মে সুইজারল্যান্ডের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে কাতার। হুলেন লোপেতেগির অধীনে কাতার দল ৪-৩-৩ অথবা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পজিশনভিত্তিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এখনো বড় চিন্তার কারণ। সাম্প্রতিক আরব কাপে তিউনিসিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার কিংবা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে পরাজয়Ñ সব মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়হীন মরুর দেশটি। আল-দুহাইল ও আল-সাদ ক্লাবের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর ভরসা করলেও দলে ৩৩ বা ৩৫ বছর বয়সি ফুটবলারদের আধিক্য বিশ^কাপের মতো উচ্চ গতির টুর্নামেন্টে কাতারকে বড় পরীক্ষায় ফেলবে। কাতারের আক্রমণের মূল বাজি থাকবেন তারকা উইঙ্গার আকরাম আফিফ এবং স্ট্রাইকার আলমোয়েজ আলী। বিশেষ করে বাম প্রান্ত দিয়ে আফিফের গতিশীল ড্রিবলিংই হতে পারে সুইস রক্ষণ ভাঙার প্রধান অস্ত্র।

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড মানেই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতার প্রতীক। মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে, যেখানে ৬ ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে ১৪ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২টি। অধিনায়ক গ্রানিত জাকার লিডারশিপ এবং ম্যানুয়েল আকাঞ্জির জমাট ডিফেন্সের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই দলটি যেকোনো আক্রমণভাগের জন্যই এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। নটিংহাম ফরেস্টে দারুণ ফর্মে থাকা উইঙ্গার ড্যান এনদয়ে এবং ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর গতি ও শারীরিক শক্তি কাতারের ডিফেন্সের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে।

ম্যাচটির মূল ট্যাকটিক্যাল লড়াই জমবে কাতারের আকরাম আফিফ বনাম সুইজারল্যান্ডের রাইট-ব্যাক সিলভান উইডমারের মধ্যে। লোপেতেগির আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা আফিফকে যদি উইডমার এবং মিডফিল্ড থেকে জাকা মিলে বোতলবন্দি করে ফেলতে পারেন, তবে কাতারের গোল পাওয়ার রাস্তা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের এক প্রীতি ম্যাচে কাতার ১-০ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছিল, তবে দীর্ঘ আট বছর পর বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো কাতারের জন্য অলৌকিক কিছুর চেয়ে কম হবে না।

ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ম্যাচটিতে সুইজারল্যান্ড পরিষ্কার ব্যবধানে ফেভারিট হলেও কাতার তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করবে। যদি কাতার শুরুতেই গোল হজম করা এড়াতে পারে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে ফায়দা তুলতে পারে, তবে মাঠে দারুণ এক থ্রিলার দেখা যেতে পারে। অন্যথায়, সুইসদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে বড় ব্যবধানের হারই অপেক্ষা করছে লোপেতেগির শিষ্যদের জন্য।