পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দলে তীব্র কোন্দল ও ভাঙন গুঞ্জনের মধ্যেই এবার তৃণমূলের ১৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূলের এই ১৯ জন সংসদ সদস্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা নিজেদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে বারাসতের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি আলাদা ‘ব্লক’ গঠন করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এরই মধ্যে বিদ্রোহী এই সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠির কিছু পাতা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে ১৯ জনের সই দেখা গেছে। তবে স্বাক্ষর করা এই পাতাগুলো মূল চিঠির অংশ কি না কিংবা এগুলো আদৌ স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছাল কি না, তা এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয় এবং এর সত্যতাও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ্যে আসা ওই চিঠির তালিকায় প্রথমেই স্বাক্ষর রয়েছে বারাসতের বর্ষীয়ান তৃণমূল এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। তার ঠিক পরেই সই করেছেন বীরভূমের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। ক্রমানুসারে এরপর স্বাক্ষর করেছেন মথুরাপুরের বাপি হালদার, বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল এবং বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী।
তালিকার ৯ নম্বরে স্বাক্ষর করেছেন ঝাড়গ্রামের সংসদ সদস্য কালীপদ সরেন। এরপর ক্রমানুসারে সই রয়েছে ঘাটালের তারকা সংসদ সদস্য দীপক অধিকারী ওরফে দেব, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া এবং ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিকের। প্রকাশিত ওই চিঠিতে ১২ নম্বরের পর ১৩ নম্বর স্থানটি ফাঁকা রাখা হয়েছে, সেখানে কারো নাম নেই। ১৪ নম্বরে নাম রয়েছে জঙ্গিপুরের সংসদ সদস্য খলিলুর রহমানের। এরপর সই করেছেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ এবং কলকাতা দক্ষিণের সংসদ সদস্য মালা রায়। এ ছাড়া ক্রমতালিকার বাইরে চিঠির দুটি পৃথক জায়গায় স্বাক্ষর রয়েছে হুগলির সংসদ সদস্য রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সায়নী ঘোষের।
চিঠিতে এই ১৯ জন সংসদ সদস্য স্পিকারকে জানিয়েছেন, লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাদের যেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি ব্লক হিসেবে গণ্য করা হয়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় ঝাঁকুনি দেওয়া এই চিঠিটি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কবে নাগাদ পেয়েছেন বা এ বিষয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা নিয়ে এখন ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে।

