ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই  লাল কার্ডের নতুন রেকর্ড

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি শুধু স্বাগতিক মেক্সিকোর জয় কিংবা হুলিয়ান কিনিওনেসের গোলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকছে না। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে বিশ^কাপের রেকর্ড বইয়েও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গেল তিনটি লাল কার্ড।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। প্রথমার্ধে কিনিওনেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইওর কঠোর সিদ্ধান্ত এবং একের পর এক লাল কার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর চার মিনিটের মাথায় আসে প্রথম লাল কার্ড। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে গোলের দিকে ছুটে যাওয়া মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলে। গোলের স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট করার কারণে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচে ফেরা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মেক্সিকো। ৬৬তম মিনিটে আলভারাদোর ক্রস থেকে দারুণ হেডে ব্যবধান ২-০ করেন হিমেনেস।

এরপর ভিএআরের হস্তক্ষেপে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় লাল কার্ড। আলভারাদোর ওপর থেম্বা জোয়ানের আঘাতের ঘটনা পর্যালোচনার জন্য রেফারিকে মনিটরে যেতে বলেন ভিডিও সহকারী রেফারিরা। রিপ্লে দেখে জোয়ানকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। ফলে ৯ জন নিয়ে ম্যাচ চালিয়ে যেতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

তবে লাল কার্ডের নাটক তখনো শেষ হয়নি। ম্যাচের শেষদিকে পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে প্রতিপক্ষকে ফাউল করেন মেক্সিকোর সেসার মন্তেস। গোলের সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ডের নজির গড়ে ইতিহাসে নাম লেখায় এই ম্যাচ।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দলগুলো সতর্ক ফুটবল খেলে এবং রেফারিরাও পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুটা নমনীয় থাকেন। কিন্তু মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সাম্পাইও ছিলেন ব্যতিক্রম। গোলের সুযোগ নষ্ট করা, ভিএআরের পর্যালোচনায় গুরুতর ফাউল এবং শেষ মুহূর্তের ট্যাকটিক্যাল ফাউলÑ সব ক্ষেত্রেই তিনি কঠোর অবস্থান নেন।

অবশ্য বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি লাল কার্ডের ঘটনা নতুন নয়। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার বিখ্যাত ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ ম্যাচে চার খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন। এ ছাড়া ১৯৩৮ সালে চেকোসেøাভাকিয়া-ব্রাজিল, ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরি-ব্রাজিল, ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-ডেনমার্ক এবং ২০০৬ সালে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও তিনটি করে লাল কার্ড দেখা গেছে।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ডের ঘটনা বিশ^কাপে এবারই প্রথম। ২০১০ বিশ^কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর লড়াই স্মরণীয় হয়ে আছে ভুভুজেলার শব্দ, সিফিওয়ে তশাবালালার গোল এবং ১-১ ড্রয়ের জন্য। ১৬ বছর পর আবারও এই দুই দলের উদ্বোধনী লড়াই বিশ^কাপের স্মৃতিতে জায়গা করে নিল, তবে এবার লাল কার্ডের রেকর্ড গড়ে।

মেক্সিকোর জন্য দিনটি ছিল উৎসবের। কিনিওনেসের গোল, হিমেনেসের হেড আর আসতেকার গর্জনে স্বপ্নের শুরু করেছে স্বাগতিকরা। যদিও সেসার মন্তেসের লাল কার্ড পরের ম্যাচের পরিকল্পনায় কিছুটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ছিল হতাশায় মোড়া এক রাত। হার তো আছেই, সঙ্গে দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ডের কারণে হারানোর ধাক্কাও। গ্রুপপর্বের বাকি ম্যাচগুলোয় যার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।