সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সদরে এক ভূমি উপসহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিদিমাগুরা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম তার প্রবাসী ভাইয়ের নামে থাকা জমির হোল্ডিং নম্বর ৩৩৪-এর খাজনা পরিশোধের জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ভূমি উপসহকারীর দপ্তরে ঘুরছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী মো. আরিফুল ইসলাম পলাশ ইচ্ছাকৃতভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ১০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা খাজনা নির্ধারণ করেন। পরে তা সংশোধনের জন্য তার কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার। তিনি জানান, নামজারি-সংক্রান্ত কাজে ভূমি অফিসে গেলে তাঁকে প্রায় এক মাস ঘুরিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ না দেওয়ায় তার জমির খাজনা বেআইনিভাবে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট হারে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ইউএনওর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ভূমি উপসহকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের ন্যায্য খাজনা ও নামজারি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. আরিফুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-20260219155642.webp)


