সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারাবহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকেভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, ছাতক থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকেভেটর ও একটি হুইল লোডার মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে যন্ত্র দুটি জব্দ করা হয় এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসলাম উদ্দিনের জিম্মায় জিম্মানামার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্থানীয়দের তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাদের এ কর্মকাণ্ড বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত যন্ত্রপাতির মালিক শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট মামলা নং-৬৪/২০২৬-এর আদেশের পর অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করে ২৩ জুলাই ছাতক থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন: আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫), আবুল বশর (৬০), আতাউর (৪০), চমক আলী (৬০), নজির আলী (৫৫), ধন মিয়া (৬২), মোহাম্মদ আলী (৫২), কামরুল (৩৮), রফিক (৫৫), জয়নাল (৪৬), এবাদুল্লাহ (৫৪), জাইদুল (৪২), আতাউর (৪৮), সুজন (৪৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।
ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

