সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের সরকারি কক্ষে ঢুকে তার আসনে বসে টিকটক ভিডিও ধারণ করেন এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে এবং গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ‘The brand @shimaqueen22’ নামের একটি টিকটক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এক তরুণী উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসে চেয়ারটিতে বসে কণ্ঠশিল্পী সাজ্জাদ নূরের একটি গানের সঙ্গে লিপসিং করছেন। ভিডিওতে পরিষদের চেয়ারম্যানদের নামফলক, সরকারি লোগো, জাতীয় পতাকা এবং বিজয় দিবসের স্মারক ক্রেস্ট স্পষ্ট দেখা যায়।
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ইতোমধ্যে ভিডিওটি সাড়ে ৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৫৪২টি প্রতিক্রিয়া ও ২৮টি মন্তব্য এসেছে।
তরুণীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, তিনি বাথরুম ব্যবহার করতে এসে অফিসকক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। পরে সেখানে চেয়ারম্যানের চেয়ার খালি পেয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১২৯২, তারিখ: ২৯/৮/২০২৫) করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে তিন জন কর্মচারীর দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চেয়ারম্যান মনজুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়, ফলে অফিসটি বর্তমানে চেয়ারম্যানশূন্য।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের অবহেলা স্পষ্ট। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।