ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ছুটির দিনেও বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা, আর সেই তালিকায় নিয়মিতভাবেই উপরের দিকে দেখা যায় রাজধানী ঢাকা-র নাম। ছুটির দিনেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে এই নগরী।

বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা IQAir-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর দাঁড়ায় ২৯৮-এ। এই মাত্রা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ এ অবস্থায় বাতাসে উপস্থিত ক্ষতিকর কণার পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করলে শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্‌রোগ এবং অ্যালার্জিজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে।

একই সময় বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লাহোর। শহরটির দূষণ স্কোর ছিল ২১১, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর রেকর্ড করা হয় ১৮৬। দিল্লির বায়ুমানও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হলেও ঢাকার তুলনায় তা কিছুটা কম। ফলে এদিন দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার বাতাসই ছিল সবচেয়ে বেশি দূষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’ বা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সাধারণ মানুষের জন্যও অস্বাস্থ্যকর। আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি নির্দেশ করে। ৩০০-এর ওপরে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতে শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতার ঘাটতি এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালি বায়ুদূষণ বাড়িয়ে তোলে। এ সময় বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণা (PM2.5 ও PM10) সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ স্থির থাকে। এছাড়া ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন ও আশপাশের অঞ্চলের দূষণও ঢাকার বায়ুমানকে প্রভাবিত করে।

ছুটির দিনে সাধারণত যানবাহনের চাপ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম কিছুটা কম থাকে। তবুও এদিন ঢাকার বাতাসের এমন ভয়াবহ চিত্র নগরবাসীকে নতুন করে উদ্বিগ্ন করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঘরের ভেতরে বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।