ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ঢাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১৭ জুলাই রাতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই একই হলে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অনুষদ ও বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সম্প্রতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন দফতরের প্রধান এবং ডাকসু ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ পালন করা হবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে চারুকলা অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক এবং প্রক্টরকে সদস্য-সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন করা হবে। সেখানে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্মারক, ছবি, ভিডিও ও প্রাসঙ্গিক উপকরণ সংরক্ষণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৃথক একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আগামী ৫ আগস্ট সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’-য় বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া জুলাই মাসজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা, সেমিনার ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ডিসপ্লের মাধ্যমে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আঁকা গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের জন্য পুনরায় রং করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মরণিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচিতে কারা অংশগ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে, আন্দোলন-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও আলোচনা হয়।