ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ: বন্ধের পথে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:০৯ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনই তিন প্রতিষ্ঠান— জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)—অবসায়ন করা হচ্ছে না। আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টির পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের পথে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার আগে গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে। পর্যালোচনা শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে। পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত ৩,৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে, রমজানের আগেই, তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন শুরু হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে, শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে কেবল মূল অর্থ ফেরত দেয়া হবে, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।