ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

রূপায়ণ সিটিতে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ, উচ্ছ্বাসে মাতলেন দেশি-বিদেশি বাসিন্দারা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে উত্তরার প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি রূপায়ণ সিটি। শেষ বাঁশি বাজতেই তিনটি বিশাল পর্দার সামনে একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শিশু, তরুণ, প্রবীণসহ দেশি-বিদেশি বাসিন্দারা। করতালি, হাসি আর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কমিউনিটি। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবলের উন্মাদনা সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়।

রোববার বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ লাইভ স্ক্রিনিংয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন শত শত বাসিন্দা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রূপায়ণ সিটি উত্তরায় বসবাসরত ৩০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিকও এ উৎসবে অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে এক্সিলেন্স সার্ভিসেস লিমিটেড। আয়োজনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু খেলা দেখার আয়োজন নয়; বরং প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর একটি অনন্য উদ্যোগ।

খেলা দেখতে আসা বাসিন্দারা জানান, বড় পর্দায় এমন নিরাপদ ও পারিবারিক পরিবেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলা দেখার আয়োজন থাকলেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কারণে তারা রূপায়ণ সিটির অনুষ্ঠানকেই বেছে নিয়েছেন।

বাসিন্দা ওয়াসিউল হাবিব বলেন, অনেক আবাসিক এলাকায় থেকেছি, কিন্তু পরিবার নিয়ে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে বড় পর্দায় খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। পুরো পরিবেশ ছিল নিরাপদ, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। মনে হচ্ছিল যেন স্টেডিয়ামেই বসে খেলা দেখছি।

বিদেশি বাসিন্দা জন স্মিথ বলেন, আমি বিভিন্ন দেশে থেকেছি। তবে একটি আবাসিক কমিউনিটিতে এত সুন্দরভাবে বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন খুব কমই দেখেছি। এখানকার আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

নাসরিন আক্তার বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটি আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন আয়োজন প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করে।

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন বলেন, শুধু খেলা দেখা নয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবাই একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছি। রূপায়ণ সিটি উত্তরা যে একটি প্রাণবন্ত কমিউনিটি, সেটি আবারও প্রমাণ হয়েছে।

এক্সিলেন্স সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রশাসন প্রধান মো. হাবিবুল্লাহ জুনায়েদ বলেন, আমরা শুধু একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে চাইনি; আমরা এমন একটি কমিউনিটি গড়তে চেয়েছি, যেখানে বাসিন্দারা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা। বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কমিউনিটি-ভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।