বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে প্রকাশিত ৭ম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলেও বিপুলসংখ্যক পদ এখনো শূন্য রয়ে গেছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ৬৭ হাজারের বেশি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন মাত্র ১৮ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থী। এর মধ্যে আবার প্রায় দুই হাজার আবেদনকারীর রোল ব্লক হওয়ায় প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যা নেমে এসেছে ১৬ হাজারের ঘরে। ফলে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির পরও প্রায় ৫১ হাজার শিক্ষক পদ খালি থেকে যাচ্ছে।
এদিকে, এ গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট কতজন প্রার্থী আবেদন করেছেন—এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ বিভ্রান্তি দূর করতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ৭ম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকায় তাদের রোল পরবর্তীতে ব্লক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার পরও অনেক ইনডেক্সধারী শিক্ষক আবেদন করেছেন, যা দুঃখজনক। তাদের রোল আমরা ব্লক করেছি। এতে করে মোট আবেদন সংখ্যা আরও কমে যাবে।’
তিনি আরও জানান, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ইনডেক্স না হওয়ায় অনেক প্রার্থী ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে এনটিআরসিএর অনুরোধে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর তাদের এমপিওভুক্ত করায় তারাও ইনডেক্সধারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন এবং রোল ব্লকের আওতায় পড়েছেন।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর রোল ব্লক করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি হবে।
উল্লেখ্য, ৭ম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয় গত ১০ জানুয়ারি। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এই তিন ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন চলে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৮ জানুয়ারি।
এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, এ গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৬৭ হাজার ২০৮টি। এর মধ্যে
- স্কুল ও কলেজে শূন্য পদ ২৯ হাজার ৫৭১টি,
- মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি,
- এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি পদ রয়েছে।
আবেদনকারীর তুলনায় শূন্য পদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সারা দেশে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, এ সংকট নিরসনে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নিয়োগ উদ্যোগ প্রয়োজন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন