সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠে আসে। লিখিত পরীক্ষার সময় রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী প্রশ্নফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে আটক হন।
পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় গিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় দেশের বিভিন্ন ভাইভা বোর্ডে একাধিক ‘ভুয়া’ প্রার্থীও শনাক্ত হন। এমন পরিস্থিতিতেই এখন মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ফল প্রকাশ হতে পারে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ফল প্রকাশের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানেই নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ হবে। কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলে এক বা দুই দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে জেলা ভিত্তিকভাবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
লিখিত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় সর্বাধিক ২ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। এরপর কুমিল্লা থেকে ২ হাজার ৫৬৪ জন, কুড়িগ্রাম থেকে ২ হাজার ৪৬০ জন, দিনাজপুর থেকে ২ হাজার ৪২১ জন, গাইবান্ধা থেকে ২ হাজার ২৯৫ জন, সিরাজগঞ্জ থেকে ২ হাজার ১২৩ জন এবং সুনামগঞ্জ থেকে ২ হাজার ৬০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছয়টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।


