× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ছবি : সংগৃহীত

আগামী এপ্রিলে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

এই নির্দেশনাগুলো মূলত পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, নকল প্রতিরোধ করা এবং সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

পরীক্ষার কাঠামো ও সময় বণ্টন

এই পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি ধাপের জন্য নির্ধারিত সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে।

প্রথম ধাপ: বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত—এই তিনটি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—প্রতিটি বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পাসের শর্ত: শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ কোনো একটি বিষয়ে কম নম্বর পেলে সামগ্রিক ফল ভালো হলেও বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বৃত্তির ধরন ও কোটা ব্যবস্থা

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তি দুই ধরনের হবে—

  • ট্যালেন্টপুল বৃত্তি
  • সাধারণ বৃত্তি

এ ছাড়া কোটা ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য সমান (৫০%-৫০%) সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা লিঙ্গ সমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
  • মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ প্রদান করা হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
  • বাকি ২০ শতাংশ বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি নির্দেশনা 

পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম রোধ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিচের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে—

১. প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক

প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাই পরীক্ষার আগের দিনই প্রবেশপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া উত্তম।

২. নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করা যাবে না

মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ঘড়ি বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সঙ্গে পাওয়া গেলে পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

৩. ওএমআর কভার পৃষ্ঠায় সঠিক তথ্য পূরণ

উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় (ওএমআর) শুধু নাম, রোল নম্বর এবং বিষয় কোড লিখতে হবে। অতিরিক্ত কিছু লিখলে তা পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।

৪. ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা

পরীক্ষা শেষে খাতা জমা দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষর না থাকলে খাতা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৫. নিজের পরিচয় গোপন রাখা

উত্তরপত্রের ভেতরে নাম, স্কুলের নাম, ঠিকানা বা কোনো বিশেষ চিহ্ন দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি পরীক্ষার গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৬. খসড়া কাজের নিয়ম

পরীক্ষায় আলাদা খসড়ার কাগজ দেওয়া হবে না। উত্তরপত্রেই খসড়া কাজ করতে হবে এবং পরে তা কেটে দিতে হবে, যাতে পরীক্ষকের কাছে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

৭. অন্য কোথাও কিছু লেখা নিষিদ্ধ

অনেক সময় কিছু শিক্ষার্থী টেবিল, স্কেল বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে তথ্য লিখে রাখে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন কিছু ধরা পড়লে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৮. নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ করা যাবে না

প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর কমপক্ষে ১ ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে কেউ হল থেকে বের হতে পারবে না। এটি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৯. খাতা জমা দেওয়ার নিয়ম

পরীক্ষা শেষ হলে খাতা অবশ্যই ইনভিজিলেটরের কাছে জমা দিতে হবে। খাতা জমা না দিয়ে হলে থেকে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১০. কর্তৃপক্ষের অন্যান্য নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক

পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যে অতিরিক্ত নির্দেশনা দেবেন, সেগুলোও মেনে চলতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালে আচরণবিধি (বিশদভাবে)

  • পরীক্ষার হলে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখতে হবে; কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
  • প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো উপায়ে তথ্য আদান-প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • অন্যের খাতা দেখে লেখা বা কাউকে দেখানো গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  • ইনভিজিলেটরের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করা যাবে না।
  • উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করা যাবে না।
  • খাতার কোনো পৃষ্ঠা ছেঁড়া, বদলানো বা নষ্ট করা যাবে না।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বীকৃতি পায় এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা লাভ করে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত নিয়ম মেনে, সততার সঙ্গে এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। সঠিক প্রস্তুতি ও নিয়ম মেনে চললে ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব।

Link copied!