ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

জগন্নাথে পেরেকবিদ্ধ গাছের আর্তনাদ 

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার টানানোর প্রবণতা থামছেই না। পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার নানা প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের গাছে এখনো পেরেক দিয়ে ব্যানার লাগানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক ব্যানার গাছে পেরেক দিয়ে টানানো অবস্থায় দেখা গেছে। একই সঙ্গে জবি ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানের ব্যানারও দীর্ঘদিন ধরে গাছে পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় ঝুলতে দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায় শান্ত চত্ত্বর, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে, শহীদ সাজিদ ভবনের সামনের গাছের কাণ্ডে সরাসরি পেরেক ঠুকে ব্যানার লাগানো হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের ব্যানারগুলো গাছের সঙ্গে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে গাছের কাণ্ডে দৃশ্যমান ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ সচেতন শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করে তারা গাছকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু ব্যানার টানিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও অনেক ব্যানার অপসারণ করা হয় না। এরই উদাহরণ জবি ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের ব্যানার, যা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও গাছে পেরেক দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে গাছের ক্ষতি যেমন হচ্ছে, তেমনি ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

এর আগে একই ধরনের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু ব্যানার অপসারণ এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বর্তমানে আবারও রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, গাছে পেরেক ঠোকা একটি ক্ষতিকর অভ্যাস। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন রোগজীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি গাছের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, ক্যাম্পাসের গাছ কোনো সংগঠনের বিজ্ঞাপন বোর্ড নয়। রাজনৈতিক দল হোক বা অন্য কোনো সংগঠন, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার লাগানো বন্ধ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারণার জন্য নির্দিষ্ট বোর্ড ও স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও গাছ ব্যবহার করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ছাত্রদলের লাগানো ব্যানার এবং ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের ঝুলিয়ে রাখা ব্যানার দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শান্ত চন্দ্র শীল বলেন, আসলে আমরা এর আগেও এভাবে পেরেক ঠুকে ব্যানার লাগাতে দেখেছি, যে কারণে আমরাও এভাবেই লাগিয়ে ছিলাম। আর আমরা ব্যানার লাগানোর বিষয়ে প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম তবে কোথায় কিভাবে লাগাতে হবে, এ বিষয়ে তারা কিছু বলেনি আমাদের। আর আমাদের যদি কোন ব্যানার থেকে থাকে আমরা সেটা দ্রুতই সরিয়ে নিব।

জবি ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, এটা সম্ভবত ডেকোরেশন এর লোকেরা ভুলবশত টানিয়েছে। ধন্যবাদ আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য, আমি দ্রুতই নিজে থেকে এটির বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে বললে তিনি আজ সকাল ১০ টার মাঝে সবগুলো ব্যানার সরিয়ে ফেলার কথা বললেও এখনো ব্যানার সরিয়ে ফেলার দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি।