ত্বকের যত্ন শিল্পে সাম্প্রতিক সময়ে শামুকের নির্যাস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এই উপাদান নিয়ে তৈরি কনটেন্ট এখন বেশ ভাইরাল। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগ্রহ অনেকেরই, ফলে এখন এই নির্যাসের দিকে ঝুঁকছেন।
শামুক ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় পিষে রাখা শামুক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আধুনিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
শামুক চলার সময় যে প্রাকৃতিক আঠালো নির্যাস নিঃসৃত হয়, সেটিই প্রক্রিয়াজাত করে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়। এই নির্যাসে কোলাজেন ও ইলাস্টিন রয়েছে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড মৃত কোষ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে এবং অ্যালানটোইন ত্বককে আর্দ্র রাখতে ও ক্ষত নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এই নির্যাস বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তরকে শক্তিশালী করে।
নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের বার্ধক্যের ছাপও কমতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যবহার করলে সূক্ষ্ম বলিরেখা ও রেখা হালকা হতে শুরু করে এবং ত্বক আরও মসৃণ দেখায়।
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, শামুকের নির্যাস ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি ত্বকজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া এতে থাকা প্রাকৃতিক গ্লাইকোলিক অ্যাসিড মৃদু এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর হয়ে ত্বক দেখায় আরও উজ্জ্বল ও সতেজ।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ও রাতে দিনে দুবার এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহারে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন