ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অনলাইনে নকল ওষুধের ঝুঁকি বাড়ছে: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নতুন উদ্বেগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইনে নকল ওষুধ বিক্রির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ফেন্টানিলের মতো সিনথেটিক ওপিওয়েড সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে প্রকাশিত সরকারি তথ্য ও আদালতের নথির ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় একটি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে অনলাইনভিত্তিক অবৈধ ফার্মেসি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ২০০টিরও বেশি ইন্টারনেট ডোমেইন জব্দ করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৈশ্বিক ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল, যেখানে বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের কার্যক্রম একাধিক দেশের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, এইচএস কোড ৩০০৪-এর আওতায় (যা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করে) ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসে বৈধ ও অবৈধ পণ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রতিবেদনে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে মাদক উৎপাদন বা ট্রানজিটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে ডিইএ-এর জাতীয় মাদক হুমকি মূল্যায়ন ২০২৫ প্রতিবেদনে ফেন্টানিল এবং এর উপাদানগুলোর উৎস ও পাচার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ফেন্টানিলের উপাদান পাচারের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছে। এসব মামলা থেকে বোঝা যায়, রাসায়নিক উৎপাদন, বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের লজিস্টিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব অভিযোগ এখনও বিচারাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওষুধ বিক্রির প্রসার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অবৈধ বিক্রেতাদের শনাক্ত করা এবং ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছেন তারা।