ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আর্টেমিস-২ মিশনে চার নভোচারীর চন্দ্রজয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:০১ এএম
চার নভোচারীর চন্দ্রজয়। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদের বুকে মানুষের পদচিহ্ন পড়ার পথ প্রশস্ত হলো। সফলভাবে মহাকাশ ভ্রমণ শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী। এই মিশনের সফল সমাপ্তি কেবল নাসার জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।

আর্টেমিস-২ ছিল নাসার চন্দ্রাভিযান প্রকল্পের প্রথম মানববাহী মিশন। এই মিশনে চারজন নভোচারী ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। যদিও তারা চাঁদের মাটিতে পা রাখেননি, তবে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেছেন।

মিশনের চার নায়ক
এই মিশনে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন চার মহাকাশচারী:

রিড ওয়াইজম্যান: কমান্ডার (নাসা)

ভিক্টর গ্লোভার: পাইলট (নাসা) — যিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে চাঁদের অভিযানে গেলেন।

ক্রিস্টিনা কচ: মিশন স্পেশালিস্ট (নাসা) — চাঁদের অভিযানে যাওয়া প্রথম নারী।

জেরেমি হ্যানসেন: মিশন স্পেশালিস্ট (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)।

মিশনের মূল অর্জনসমূহ
১. প্রযুক্তিগত পরীক্ষা: ওরিয়ন ক্যাপসুলের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রায় কতটুকু কার্যকর, তা এই মিশনে সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২. চাঁদের নিকট পর্যবেক্ষণ: নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী প্রান্ত (Far side of the Moon) থেকে হাই-রেজোলিউশন ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ অবতরণ স্থল নির্বাচনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।

৩. নিরাপদ প্রত্যাবর্তন: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তীব্র গতিতে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের 'হিট শিল্ড' বা তাপ সুরক্ষা কবচ সফলভাবে কাজ করেছে, যা নভোচারীদের জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এরপর কী? লক্ষ্য এবার ‘আর্টেমিস-৩’
আর্টেমিস-২ মিশনের এই অভাবনীয় সাফল্য এখন 'আর্টেমিস-৩'-এর পথ খুলে দিল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে। সেখানে প্রথমবারের মতো একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের পৃষ্ঠে হাঁটবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়া
নাসার প্রধান প্রশাসক এই মিশনের সফলতাকে ‘মানবজাতির অদম্য সাহসের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এই মিশন থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে (Mars) মানববাহী মিশন পাঠানোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।