ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশ ভ্রমণ কি এখন সহজ ব্যাপার?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
মহাকাশ ভ্রমণ কি এখন সহজ ব্যাপার? ছবি : সংগৃহীত

আর্টেমিস-২ মিশনের চার মহাকাশচারী সফলভাবে চন্দ্র-কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এই মিশনটি কেবল নাসার জন্য নয়, বরং স্পেস এক্স-এর মতো বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর জন্যও এক বিশাল মাইলফলক। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে-নাসার এই অভিযান কি সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশ ভ্রমণের পথ প্রশস্ত করছে?

১. আর্টেমিস-২ এবং স্টারশিপ: সংযোগ কোথায়?
নাসার আর্টেমিস প্রকল্প এবং ইলন মাস্কের স্পেস এক্স একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। আর্টেমিস-২ মিশনের সফলতার পরপরই স্পেস এক্স তাদের বিশাল রকেট 'স্টারশিপ' (Starship)-এর আরও উন্নত সংস্করণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই স্টারশিপই ভবিষ্যতে শত শত মানুষকে একসঙ্গে মহাকাশে বা মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যাওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।

২. পর্যটনের খরচ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা
মহাকাশ ভ্রমণ সহজ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো এর আকাশচুম্বী খরচ। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন:

অরবিটাল মিশন (স্পেস এক্স): ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (ISS) কয়েক দিন থাকার জন্য খরচ হয় প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)।

সাব-অরবিটাল ভ্রমণ (ব্লু অরিজিন/ভার্জিন গ্যালাকটিক): মাত্র ১০-১৫ মিনিটের জন্য মহাকাশের কিনারা ঘুরে আসতে খরচ পড়ছে ৪ থেকে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৫-১০ কোটি টাকা)। তবে আশার কথা হলো, স্পেস এক্স-এর স্টারশিপ যদি সফলভাবে নিয়মিত যাত্রা শুরু করে, তবে ২০৩০ সালের দিকে এই খরচ কয়েক লাখ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩. সাধারণ মানুষ কি যেতে পারবে?
বর্তমানে মহাকাশে যেতে হলে কড়া শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের পর তারা ঘোষণা করেছে যে, মহাকাশযানের ভেতরে মানুষের জন্য জীবনযাত্রার মান আরও সহজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে 'সিভিলিয়ান মিশন' বা সাধারণ নাগরিক মিশন আরও বাড়বে। যেমন:

অ্যাক্সিওম স্পেস (Axiom Space): তারা ইতিমধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর কাজ শুরু করেছে।

স্পেস ট্যুরিজম প্যাকেজ: বড় বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো এখন থেকেই ভবিষ্যৎ মহাকাশ ভ্রমণের অগ্রিম বুকিংয়ের পরিকল্পনা করছে।

৪. মহাকাশ ভ্রমণের ভবিষ্যৎ: ২০২৬-২০৩০
আর্টেমিস-২-এর সাফল্যের পর ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ মিশনে চাঁদে সরাসরি অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর থেকে চাঁদ কেবল গবেষণার কেন্দ্র নয়, বরং পর্যটকদের জন্য একটি 'ট্রানজিট পয়েন্ট' হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য-আগামী দশকের মধ্যে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ একটি বিলাসবহুল গাড়ির দামের সমান করে আনা।

৫. ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
প্রযুক্তির উন্নতি হলেও মহাকাশ ভ্রমণ এখনো শতভাগ নিরাপদ নয়। রেডিয়েশন বা বিকিরণ এবং জিরো গ্র্যাভিটিতে দীর্ঘ সময় থাকা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি সহজলভ্য করার আগে এসব ঝুঁকি কমানোর কাজ চলছে।