উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়।
বৈঠকে মোট ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের জানান।
অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬
- পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬
- জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬
- বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬
- নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬
- কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬
এ ছাড়া বৈঠকে প্রতি বছর ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি দিবস’ উদযাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণসংক্রান্ত কনভেনশন (CAT)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
বৈঠকে আরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাবে।
উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ফার্স্ট সেক্রেটারি পর্যায়ের নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার। এর জন্য বিদ্যমান বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশন থেকে জনবল নিয়োগ করা হবে।
সর্বশেষ, বৈঠকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮-এর খসড়া অনুমোদিত হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠক দেশের নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। অনুমোদিত অধ্যাদেশ ও নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন