ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘মেরে ফেললেও অবস্থান থেকে এক চুল সরব না’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। ছবি - সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শরিফ ওসমান হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, আমাদেরও শেষ কথা, শহিদ হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত আমাদের মেরে ফেলা হলেও আমরা এক চুলও আমাদের অবস্থান থেকে সরব না।

ইনকিলাব মঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টায় তাদের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করে।

অবস্থানকালে মঞ্চের নেতারা জানান, চারপাশে শত শত পুলিশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ঘিরে রেখেছেন। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে বিকেল আনুমানিক ৫টায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, হাদির হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য। আমরা সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। কিন্তু বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবাই আমাদের প্রতি উদাসীন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচারের জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়, যেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

হাদির হত্যাকাণ্ডের পর, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।