ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
জাতীয় সংসদ । ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে সেই দল বা জোট, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতেছে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অর্থাৎ ১৫০টির বেশি আসন পেয়েছে।

তবে নতুন সরকার গঠন হবে কীভাবে বা তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বা নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।

শপথ কে পড়াবেন

আতীতের মতো স্পিকার সাধারণত শপথ পাঠ করান। কিন্তু সংসদ ও স্পিকার অনুপস্থিত থাকায় সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

১. রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তিকে শপথ পাঠ করানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে।
২. যদি রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করাবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করা সরকারের নীতিগত লক্ষ্য। তিন দিনের বিলম্ব এ ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য হলেও সরকার চাইছে শপথ গ্রহণ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন হোক।

সরকার গঠন প্রক্রিয়া

শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে। নেতাকে প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে, এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন কার্যকর হবে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের আস্থাভাজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হবেন।

ক্ষমতা হস্তান্তর

সংবিধান অনুযায়ী শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের পদগুলোর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আগের সরকারের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে নতুন সরকারের কার্যভার শুরু হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে যে, শপথ গ্রহণের পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।