ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বসন্ত এসে গেছে...

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
বসন্তের প্রকৃতি। ছবি : সংগৃহীত

বসন্ত মানেই প্রকৃতির নতুন সাজে জেগে ওঠা, জীবনের স্পন্দন আর রঙের উৎসব। বাংলাদেশে ফাল্গুনের প্রথম দিনটি ‘পয়লা ফাল্গুন’ বা ‘বসন্ত বরণ’ হিসেবে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসবের আয়োজন শুরু করেছিল, তবে এর শিকড় আরও গভীরে।

শীতের রিক্ততাকে বিদায় জানিয়ে বসন্ত বয়ে আনে প্রাণের জোয়ার। গাছে গাছে নতুন পাতা, ফুলের মেলা আর পাখির কলকাকলিতে প্রকৃতি ফিরে পায় তার যৌবন। রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে বাতাসে ভেসে বেড়ায় ফুলের সুবাস। এই ঋতু কেবল প্রকৃতিকেই রাঙায় না, মানুষের মনেও নিয়ে আসে নতুন উদ্দীপনা। তাই তো সবাই মেতে ওঠে বসন্তের রঙে নিজেকে সাজিয়ে তোলার উৎসবে।

‘ফাল্গুন’ নামটি এসেছে ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৫০-৬০ এর দশকে যখন বাঙালিরা পাকিস্তানি সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিল, তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীত চর্চা এবং বাঙালিয়ানা উদযাপনের মাধ্যমেই তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরেছিল।

সাহিত্য ও সংগীতে বসন্ত এক চিরন্তন বিষয়। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় যখন বলেন, ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’, তখন তা হৃদয়ে দোলা দেয়। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কণ্ঠে ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে...’ গানটি আজও আমাদের মুগ্ধ করে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বসন্তকে নিয়ে রচনা করেছেন অগণিত কাব্য ও গান।

তবে পয়লা ফাল্গুন কেবল উৎসবের দিন নয়, বাঙালির চেতনায় এটি দ্রোহের মাসও বটে। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা। রফিক, শফিক, বরকত, সালামদের রক্তে রাঙানো এই মাসেই বাঙালি তার মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই বসন্তের এই উৎসবের আমেজের মাঝেও মিশে আছে মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের গৌরবময় ইতিহাস।