দেশের রাজনীতিতে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর জল্পনা চলছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের স্থলাভিসিক্ত হন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি ওঠে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তার নৈতিকতা ও পদে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
সংবিধানের ৫২ ও ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের একমাত্র ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। দেড় বছর আগে সংসদ ভেঙে যাওয়ার কারণে তাকে অপসারণের কোনো বৈধ সাংবিধানিক পথ ছিল না। অনেক রাজনৈতিক দল সে সময় ‘সাংবিধানিক শূন্যতা’ এড়াতে তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ায় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা অভিশংসনের পথ সুগম হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদ চাইলে সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পারে অথবা রাষ্ট্রপতি নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।
তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রপতির পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।


