আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তার জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম।
বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহ ও হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে অন্যতম আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। তিনি বিডিআর বিস্ফোরক মামলার শুনানিতে আসামিদের খালাস ও জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সুফিয়া আক্তার মাধবপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটির। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের প্রধানেরাও রয়েছেন।
রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলা। এরই মধ্যে আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা হবে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।


