ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
পে স্কেল। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি)। 

এ জন্য পাঁচটি যুক্তি দেখিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (২ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিচ্ছেন।

তবে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর প্রায় এক যুগ পার হলেও নবম পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, বেড়েছে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে বর্তমান বেতন কাঠামোর মধ্যে জীবনযাপন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক চাপে পড়ছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও বেতন কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। এতে জীবনমান ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের যুক্তিসমূহ হলো:

১. দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

২. দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩. সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

৪. প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।