× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে বিদায় নিয়েছিল আ.লীগ : রাষ্ট্রপতি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি- সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুনে সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার বিদায় নেয় এবং পরে দুর্নীতি দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দেশকে সেই কলঙ্ক থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনগত কাঠামো জোরদার করা হয় এবং ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্নীতির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটে এবং দেশ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। বর্তমান সরকারও দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে এবং হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন গণতান্ত্রিক পথচলার সূচনা হয়। এ সময় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারান।

রাষ্ট্রপতি জানান, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান, উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর আহতদের বিদেশে পাঠানোসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাজধানীতে জাদুঘর এবং দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে প্রায় ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে অনিয়ম তদন্তে একটি পৃথক কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

এদিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর সময় সংসদ কক্ষে বিরোধী দলের কিছু সদস্য প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান এবং হট্টগোল সৃষ্টি করেন। পরে তারা ওয়াকআউটও করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

ভাষণের শেষাংশে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!