পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীসহ সারাদেশের পরিবহন খাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যানজটমুক্ত সড়ক, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে সরকার ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে আজ (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়াসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বর্তমানে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি টার্মিনালে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও অভিযান পরিচালনা করছেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রতিটি টার্মিনালে মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে।
বিবৃতিতে আর জানানো হয়, যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অনিয়মের দায়ে এক বাস কাউন্টার ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যকে 'মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।
তারা অভিযোগ করে বলেন, জনৈক মোজাম্মেল হক ও তার কথিত সংগঠনটি সরকার এবং পরিবহন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বিবৃতির শেষে আরও যোগ করে বলা হয়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। এটি একটি 'কাগজে-কলমে ভুঁইফোড়' সংগঠন ছাড়া আর কিছুই নয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিভিন্ন গণপরিবহনে ভাড়ার অসংগতি চলছেই। সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন বাস কাউন্টার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা আমাদের আংশিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে টাকার হিসাব আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, বাস মালিকদের সঙ্গে না নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিজেরাই সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন