মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় খুলতে এবং অভিবাসন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে সম্মতি হয়। একই সঙ্গে একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমানো এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার (৮ এপ্রিল) মালয়েশিয়া সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল শ্রমবাজার ইস্যুতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় মাহদী আমিন ও বাংলাদেশের হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় শ্রমিকদের শোষণ রোধে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশ দীর্ঘদিনের পারস্পরিক লাভজনক শ্রম অভিবাসন অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়া একটি প্রযুক্তিনির্ভর, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা কমানো এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’ নীতি অনুসরণ করে শ্রমিকদের জন্য নিয়োগ ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ ধরনের বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এছাড়া মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি বিষয়, অনিয়মিত শ্রমিকদের সমস্যা এবং দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বৈঠক শেষ হয় এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয় দুই দেশ। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


