ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আপিলেও টিকলেন না এনসিপি প্রার্থী মনিরা শারমিন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
এনসিপি নেতা মনিরা শারমিন। ছবি : সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে দীর্ঘ শুনানির পর নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়।

এর আগে, রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেন তিনি।নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মনিরা শারমিনকে আপিলে আমরা আইনগতভাবে সহায়তা করতে পারিনি। ওনার মনোনয়ন বাতিলই থাকছে।

রোববার আপিল আবেদন জমা দেওয়া শেষে মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আমি আপিল করেছি। আপিলে রায় পক্ষে না গেলে আমরা হাইকোর্টে যাব বিষয়বস্তু ঠিক রেখে শব্দ ও ভাষাগত পরিবর্তন করে একটা প্রতিবেদন করে দেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর তিনি আপিল করলেও আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) তা খারিজ করে দেওয়া হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের। নির্বাচন কমিশনে করা তাঁর আপিল আবেদনটি দীর্ঘ শুনানির পর খারিজ হয়ে গেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই সিদ্ধান্ত জানায় কমিশন।

আপিল খারিজের কারণ
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রাথমিক বাছাইয়ের সময় সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই আদেশের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ এপ্রিল) আপিল করেছিলেন মনিরা শারমিন।

আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলই থাকছে। আমরা আইনগতভাবে তাকে কোনো সহায়তা করতে পারিনি।’

মূলত সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের পর নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (৩ বছর) পার না হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা আটকে যায়।

পরবর্তী পদক্ষেপ: হাইকোর্টের পথে মনিরা
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর এনসিপি প্রার্থী মনিরা শারমিন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। রোববার আপিল জমা দেওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের রায়ে ন্যায়বিচার না পেলে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। আপিল খারিজ হওয়ার পর এখন তিনি হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনি প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মনিরা শারমিন। জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে বাকি ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ হলেও আইনি জটিলতায় ঝুলে গেল মনিরার ভাগ্য।

তপশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।