ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চলতি অর্থবছরেই কী বাস্তবায়ন হবে পে-স্কেল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়নে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সঙ্গে বৈঠক করে তার মতামত নিয়েছেন এবং সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা জটিল পরিস্থিতির কারণে এখনই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা ভাবছে না সরকার। বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতি- সব মিলিয়ে সরকার কৃচ্ছতা নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ, নতুন গাড়ি ও কম্পিউটার কেনাসহ বিলাসী প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও ভর্তুকিতে স্থানান্তরের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে জ্বালানি ও খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে। এই অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে এবং অতিরিক্ত অর্থের জোগান দেওয়াও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অর্থনীতিবিদরাও পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আলাদা কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতিও ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা বছরের শেষে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো পে-স্কেল হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। তাই দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন তারা।

তবে অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উপযুক্ত সময় বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।