ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘরে বসেই মিলবে ফায়ার লাইসেন্স

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ই-ফায়ার সেবার উদ্বোধন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। ছবি: ফায়ার সার্ভিস। ছবি- সংগৃহীত

জনগণের জন্য সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর চালু করেছে ‘ই-ফায়ার লাইসেন্স’ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এখন থেকে ফায়ার লাইসেন্সের আবেদন, নবায়ন, পুনর্মূল্যায়নসহ সব ধরনের সেবা অনলাইনে গ্রহণ করা যাবে, ফলে অফিসে গিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিরপুর-১০-এর ইওসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

শুক্রবার প্রকাশিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এতদিনের কাগজনির্ভর ও সরাসরি আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম এখন পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীরা বাসা বা কর্মস্থল থেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে সেবার স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ১ মে থেকে নতুন আবেদন, লাইসেন্স নবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম শুধু অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আগের ম্যানুয়াল আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন ই-ফায়ার লাইসেন্স বাস্তবায়ন দলের প্রধান ও পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পার্কি র্যাবিট কর্পোরেশন লিমিটেডের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

ফায়ার লাইসেন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ফায়ার লাইসেন্স হলো বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক আইনগত অনুমোদন, যা ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’-এর আওতায় বিভিন্ন শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

কারখানা, গুদাম, বহুতল ভবন, অফিস, শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি নির্গমন পথ ও নিরাপদ উচ্ছেদ পরিকল্পনা থাকলে পরিদর্শন শেষে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

প্রতি বছর এই লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স সংগ্রহ বা নবায়নে ব্যর্থ হলে জরিমানা, এমনকি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।