ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শহীদ জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কর্মসংস্থানের সূচনা: রাষ্ট্রপতি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি- সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, তার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, জিয়ার নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই ভিত্তিকে আরও সুসংহত করেন।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান শ্রমখাতের উন্নয়নে ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি প্রবর্তনের পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীতে ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন, শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের শিল্প, কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ, গৃহকর্মসহ প্রতিটি খাতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান বাংলাদেশের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের ঘোষিত শ্রমিককল্যাণ পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল, রেশম ও পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি পাটকল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্পখাতে টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য। শ্রমিক ও মালিক উভয়ের অধিকার সুরক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।